শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন
ঘুমন্ত অবস্থায় আগুনের ফাঁদে, কারা দিল আগুন?
অনলাইন ডেস্ক
ঝালকাঠির রাজাপুরে ঘটে গেল এক ভয়ঙ্কর ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা, যা পুরো এলাকাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। পূর্ব বদনীকাঠি গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ী মুর্তুজ আলী খলিফা প্রতিদিনের মতোই মঙ্গলবার রাতে নিজের দোকানে ঘুমিয়ে ছিলেন। কিন্তু মাঝরাতে হঠাৎ ঘটে যায় এমন এক নৃশংস ঘটনা, যা কল্পনাকেও হার মানায়।
রাত আনুমানিক দুইটার দিকে দুর্বৃত্তরা তার দোকানের প্রধান দরজা বাইরে থেকে বেঁধে দেয়। এরপর নিঃশব্দে আগুন ধরিয়ে দেয় দোকানে। আগুনের ভয়াবহতা এতটাই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে, ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা মুর্তুজ আলী কিছু বুঝে ওঠার আগেই মশারির আগুন লেগে তার লুঙ্গিতেও আগুন ধরে যায়। দগ্ধ হওয়ার মুহূর্তে তিনি আতঙ্কে জেগে ওঠেন। নিজের প্রাণ বাঁচাতে তৎক্ষণাৎ লুঙ্গি খুলে পূর্ব পাশে থাকা একটি ঝাঁপ ভেঙে কোনোমতে বের হয়ে আসেন। চিৎকারে ছুটে আসে স্থানীয় মানুষজন। তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও, ততক্ষণে দোকানে থাকা টাকা-পয়সা, মূল্যবান মালপত্র, ফ্রিজসহ যাবতীয় সামগ্রী সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
এই আগুনের ঘটনায় মুর্তুজ আলীর প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি নিজেই জানিয়েছেন। তবে এটি নিছক কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং পূর্বশত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা বলেই দাবি উঠেছে। ভুক্তভোগীর ছেলে কবির খলিফা জানান, তাদের বিরোধী পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে হুমকি দিয়ে আসছিল। আর এই আগুন লাগানো তারই ভয়ঙ্কর পরিণতি। তিনি বলেন, “রাত দুইটার দিকে বাবার চিৎকার শুনে আমি দৌড়ে এসে দেখি দোকান জ্বলছে। আমরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করি, কিন্তু অনেক দেরি হয়ে গেছে। প্রতিপক্ষরা পরিকল্পিতভাবে বাবাকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে।”
খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে ছুটে আসে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট। তারা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে, যদিও দোকানের অধিকাংশ জিনিসপত্র ততক্ষণে ধ্বংস হয়ে গেছে। ঘটনার পর বুধবার সকালে রাজাপুর থানার একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইতিমধ্যে একটি লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। ওসি আশ্বস্ত করেন, দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে এবং ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।
এই ভয়াবহ ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের ক্ষতিই নয়, পুরো রাজাপুরবাসীকে নাড়িয়ে দিয়েছে। রাতের ঘুমের মধ্যেই আগুনের ফাঁদ তৈরি করে মানুষ হত্যার এমন চেষ্টা যেন আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, পুরনো শত্রুতা কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে।
এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন—এখনো কি নিরাপদ কেউ? ঘুমের মধ্যে আগুনের মৃত্যু ফাঁদ আর কতজনকে গ্রাস করবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে রাজাপুরবাসী।